জরুরি অবস্থা ৪ মাস বাড়ছে

জরুরি অবস্থার মেয়াদ বাড়ছে। আরো কমপক্ষে চার মাস জরুরি পরিস্থিতি বলবৎ রাখার পর সক্রিয় রাজনৈতিক তৎপরতা পুনর্বহাল করার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। এ সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং যেসব রাজনীতিবিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়েছে তাদের বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। সক্রিয় রাজনীতির আগে কিছু সময়ের জন্য ঘরোয়া রাজনীতি চালু করারও চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানিয়েছে, ১১ জানুয়ারি সারাদেশে জরুরি অবস্থা জারির পর সরকারের পক্ষ থেকে যে সংস্কার কর্মসূচি হাতে নেয়া হয় তার মধ্যে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছিল দুর্নীতি দমনকে। এ পর্যন্ত সাবেক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীসহ অর্ধ শতাধিক ভিআইপিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অনেক রাজনীতিবিদ এখনো পলাতক। দ্রুত তাদের বিচার সম্পন্ন করার জন্য ইতোমধ্যে জরুরি আইন বিধিমালায় পরিবর্তনও আনা হয়েছে। কিন্তু মামলার তদন্ত সময়মতো সম্পন্ন না হওয়া, দুর্নীতি দমন কমিশন ও টাস্কফোর্সের কাজের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব এবং বিচারক নিয়োগসহ অন্যান্য কাজ শেষ না হওয়ায় বিচারকাজ শুরু হতে বিলম্ব হয়ে যায়। চলতি সপ্তাহ থেকে দ্রুত বিচারের কাজ চালু হচ্ছে। একই সাথে সরকারের সংস্কার কাজসহ অন্যান্য কাজেও নতুন মাত্রা যোগ হচ্ছে। বাংলাদেশের সংবিধানের ১৪১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জরুরি অবস্থার মেয়াদ প্রাথমিকভাবে ১২০ দিন। আগামী ১১ মে এই ১২০ দিন পূর্ণ হবে। কিন্তু সংবিধানের ১৪১(গ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ বহাল থাকা অবস্থায় এ মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পর সংসদের অধিবেশনে প্রস্তাব গৃহীত হতে হবে। বলা হয়েছে, ‘একশত কুড়ি দিন অতিবাহিত হইবার পূর্বে সংসদের প্রস্তাব দ্বারা অনুমোদিত না হইলে উক্ত সময়ের অবসানে কার্যকর থাকিবে না। তবে শর্ত থাকে যে, যদি সংসদ ভাঙ্গিয়া যাওয়া অবস্থায় অনুরূপ কোন ঘোষণা জারি করা হয় কিংবা এই দফার (গ) উপদফায় বর্ণিত একশত কুড়ি দিনের মধ্যে সংসদ ভাঙ্গিয়া যায়, তাহা হইলে তাহা পুনর্গঠিত হইবার পর সংসদের প্রথম বৈঠকের তারিখ হইতে ত্রিশ দিন অতিবাহিত হইবার পূর্বে ঘোষণাটি অনুমোদন করিয়া সংসদে প্রস্তাব গৃহীত না হওয়া পর্যন্ত উক্ত ত্রিশ দিনের অবসানে অনুরূপ ঘোষণা কার্যকর থাকিবে না।’ আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘোষণা দিয়ে জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত সরকার এর মেয়াদ বৃদ্ধি করতে পারবে।

সূত্র জানিয়েছে, জরুরি অবস্থা বলবৎ থাকায় দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর অধিকার খর্ব করার বিষয়টি সংবিধানসমমত হয়েছে বলে সরকার মনে করছে। এখন প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন করার পর নির্বাচনের বিষয়টি ভাবা হচ্ছে। আর সে কারণেই সরকার জরুরি অবস্থার মেয়াদ আরো অন্তত চার মাস বৃদ্ধি করবে। এর মধ্যে সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যসংখ্যা বাড়ানো হবে। যেসব নেতার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়েছে বিচারের মাধ্যমে তাদের দোষী সাব্যস্ত করে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। তারপরই কেবল নির্বাচন অনুষ্ঠানের ভাবনাচিন্তা করা হচ্ছে। বর্ধিত চার মাস সময়ে নির্বাচন কমিশনসহ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোও তাদের পূর্ণমাত্রায় কাজকর্ম শুরু করতে পারবে। সংস্কার কার্যক্রম চলাকালে রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ বহাল রাখা হতে পারে। তবে তৃতীয় ধারার রাজনৈতিক প্লাটফর্ম তৈরির কাজ শুরু করতে পারলে সেপ্টেম্বর মাসের আগেই ঘরোয়া রাজনীতি চালু করার সম্ভাবনা রয়েছে।

Source:দৈনিক নয়া দিগন্ত
Date:2007-05-07

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: