জাতীয় নির্বাচনের আগে দলে নির্বাচন চায় ইসি

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় প্রতিনিধি নির্বাচন নিশ্চিত করতে চায় ইলেকশন কমিশন (ইসি)। দলগুলোর ভেতরে গণতান্ত্রিক চর্চাই হবে দলের রেজিস্ট্রেশন পাওয়ার অন্যতম শর্ত।
গতকাল দুপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নির্বাচন কমিশনার বৃগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ঘরোয়া রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকায় ইসির সমস্যা হচ্ছে।

সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আমরা আশা করি ঘরোয়া রাজনীতির ওপর থেকে দ্রম্নত নিষেধাজ্ঞা ওঠে যাবে। কারণ বর্তমান অবস্থায় আমাদেরও কাজ করতে সমস্যা হচ্ছে। যখনই নিষেধাজ্ঞা উঠবে তখনই রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংস্কার বিষয়ে আলোচনা শুরম্ন হবে।

উলেস্নখ্য, সংবিধানের ১২৬ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘ইলেকশন কমিশনের দায়িত্ব পালনে সহায়তা করা সকল নির্বাহী কতর্ৃপৰের কর্তব্য হবে।’ ইতিমধ্যে সিইসি ড. এ টি এম শামসুল হুদা ঘরোয়া রাজনীতির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন। সরকার সে অনুরোধ রাখেনি। সরকারের এ ভূমিকা সংবিধানের ১২৬ অনুচ্ছেদের পরিপন্থী কি না জানতে চাইলে সাখাওয়াত হোসেন কোনো মনত্দব্য করতে অপারগতা জানান।

তিনি আরো বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর রেজিস্ট্রেশন সংক্রানত্দ বিধি তৈরি করতে সময় লাগবে। এখন আমরা দেখতে চাই সংবিধান নির্দেশিত যে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সদস্য নির্বাচিত হয়ে থাকেন, একই প্রক্রিয়ায় দলগুলোর নেতা-নেত্রীরা নির্বাচিত হন কি না। কারণ দলগুলোর গঠনতন্ত্রে দলের অভ্যনত্দরে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নেতা-নেত্রী নির্বাচনের কথা বলা আছে। রেজিস্ট্রেশনের জন্য আবেদনের সময় দলগুলোকে এর প্রমাণ জমা দিতে হবে। একই সঙ্গে দলের নির্বাচনী ইশতেহার, কেন্দ্রীয় কমিটির তালিকা এবং গঠনতন্ত্রও জমা দিতে হবে। রেজিস্ট্রেশন পাওয়ার শর্ত হিসেবে দলগুলোর কোনো ধরনের পেশাভিত্তিক (ছাত্র, শ্রমিক, আইনজীবী ইত্যাদি সংগঠন) অঙ্গ বা সহযোগী সংগঠন থাকা চলবে না। তবে অপেশাদার সংগঠন (যুব, নারী ইত্যাদি) থাকতে পারবে।

দলগুলোর মধ্যে গণতান্ত্রিক চর্চা নিশ্চিত করা এবং সাংগঠনিকভাবে তারা কতোটা কার্যকর তা জানার জন্য এ ধরনের বিধান চালু করা হবে বলে সাখাওয়াত হোসেন জানান। তিনি বলেন, দলগুলো কিভাবে ফান্ড গঠন করে থাকে এ সংক্রানত্দ তথ্য এবং তাদের আয়-ব্যয়ের হিসাবও একই সঙ্গে জমা দিতে হবে। তবে বিধি-বিধানগুলো অবশ্যই রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে পরামর্শ করেই নির্ধারণ করা হবে।

রেজিস্ট্রেশনের ৰেত্রে এ জাতীয় শর্তাবলী দলগুলো মেনে না নিলে তা কি চাপিয়ে দেয়া হবে_ জানতে চাইলে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আমরা চাপাতে চাই না। আলোচনার মাধ্যমেই সব কিছু ঠিক করা হবে।

এদিকে ৩৮টি প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে গঠিত সামাজিক প্রতিরোধ কমিটির প্রতিনিধিরা গতকাল বিকালে ইসির সঙ্গে সাৰাৎ করে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারীদের জন্য সংরৰিত আসনের সংখ্যা বাড়ানো এবং ওইসব আসনে সরাসরি নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন। প্রতিনিধি দলে ছিলেন ড. হামিদা হোসেন, অ্যাডভোকেট সালমা আলী, শিরিন আখতার, রোকেয়া কবির প্রমুখ।

সূত্রঃ http://www.jaijaidin.com/details.php?nid=9123

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: