বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ : সরকারকে আপিল বিভাগের তিন দফা নির্দেশনা

বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট প্রতিস্থাপনের জন্য সরকারকে তিনদফা নির্দেশনা দিয়েছেন সুপ্রিমকোর্ট। এ নির্দেশনার ফলে বিচার বিভাগ পৃথক করতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট প্রতিস্থাপনের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হল।
বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের ১২ দফা বাস-বায়নের লক্ষ্যে আদালতের দেয়া এই তিন দফা নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে_ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেসি প্রতিস্থাপনের জন্য পর্যাপ্ত আদালত কক্ষ নির্মাণ এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারীর ব্যবস্থা গ্রহণ, বিচারকদের জন্য আলাদা কক্ষ, বিচারকদের রুমসহ অন্যান্য অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা, বিচার ব্যবস্থার জন্য পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ করা। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের সংস্থাপন মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়, গৃহায়ন ও পূর্ত মন্ত্রণালয় এবং আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এই তিন দফা নির্দেশনা বাস-বায়ন করে আগামী ১৯ জুলাইয়ের মধ্যে হলফনামার মাধ্যমে আদালতে উপস্থাপন করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ২৩ জুলাই পুরো বিষয়ের ওপর পরবতর্ী আদেশ দেবেন সুপ্রিমকোর্ট।
প্রধান বিচারপতি মোঃ রুহুল আমিনের নেতৃত্বে সাত সদস্যবিশিষ্ট আপিল বিভাগ এই নির্দেশ প্রদান করেন। সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ আগামী ২৩ জুলাই আদালত অবমাননাকারী চার সচিব এবং ১২ দফার অপব্যাখ্যাকারী অভিযুক্ত নয় সরকারি কর্মকর্তাকে আদালতে উপস্থিত থাকার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। তবে অভিযুক্ত ৯ সরকারি কর্মকর্তাকে ওইদিন পর্যন- আদালতে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। ২৩ জুলাই চার সচিব ও অভিযুক্ত ৯ সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা শুরু করা হবে।
প্রধান বিচারপতিসহ সাত বিচারপতি সোমবার সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে আদালতে আসেন। দিনের প্রথম আইটেম হিসেবে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের বিষয়টি আদালতের দৃষ্টিগোচর করা হলে প্রথমেই এটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার ফিদা এম কামাল জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশন বিধিমালার সংশোধনী আদালতে উপস্থাপন করেন। এরপর প্রধান বিচারপতি বিচার বিভাগ সম্পর্কিত আদেশটি পাঠ করে শোনান।
প্রধান বিচারপতির এই আদেশে জুডিশিয়াল সার্ভিস সংক্রান- চারটি বিধিমালার সংশোধনী গ্রহণ করার ঘোষণা দিয়ে বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সঠিকভাবে বাস-বায়ন করা প্রয়োজন। এজন্য সুপ্রিম কোর্টের ১২ দফা নির্দেশনা পুরোপুরিভাবে বাস-বায়ন করতে হবে। আদালত এ পর্যায়ে ১২ দফা বাস-বায়নের লক্ষ্যে তিনটি নির্দেশনা প্রদান করেন এবং ২৩ জুলাই পরবতর্ী আদেশের জন্য আদালত মূলতবি ঘোষণা করেন। আদালত বলেন, জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশন বিধিমালা সংশোধনীসহ অন্য বিধিমালা এবং ফৌজদারি কার্যবিধির সংশোধনী সরকার আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী করেছে। বিচার বিভাগ আলাদা করার রায় সঠিকভাবে বাস-বায়নের জন্য সরকারকে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
এর আগে ১৬ এপ্রিল বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের জন্য সরকারকে শেষবারের মতো তিন সপ্তাহের সময় দিয়েছিল সুপ্রিমকোর্ট। ওই সময় ৭ মে’র মধ্যে বিচার বিভাগ পৃথক করার সব আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছিল আপিল বিভাগ।
১৯৯৯ সালের ২ ডিসেম্বর মাজদার হোসেন মামলায় সুপ্রিমকোর্ট বিচার বিভাগ পৃথকীকরণে ১২ দফা বাস-বায়ন করতে সরকারকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। এই নির্দেশ বাস-বায়ন করতে গত সাড়ে সাত বছরে ২৮ বার সময় নিয়েছে পাঁচটি সরকার। এর মধ্যে শেখ হাসিনার সরকার, বিচারপতি লতিফুর রহমানের তত্ত্বাবধায়ক সরকার, বেগম খালেদা জিয়ার সরকার ও অধ্যাপক ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের নেতৃত্বাধীন সরকার ২৬ বার সময় নেয়। বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইতিমধ্যে ২ বার সময় নিয়েছে। পরবতর্ীতে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী চারটি বিধিমালা ও ফৌজদারি কার্যবিধির সংশোধনী জারি করে।
সূত্রঃ http://jugantor.com/online/news.php?id=63168&sys=1

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: