শেখ হাসিনা দেশে ফিরলেন হাই টেনশন হাই ড্রামার শেষ দৃশ্যে শান্তিপূর্ণ গণজমায়েত

হাই টেনশন হাই ড্রামার শেষ দৃশ্যে শানত্দিপূর্ণভাবে দেশে ফিরেছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। এয়ারপোর্টে সাংবাদিকদের তিনি বলেছেন, তার দেশে ফেরার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে বর্তমান কেয়ারটেকার সরকার ভুল করেছিল। এ ধরনের কোনো সিদ্ধানত্দ সরকার আর নেবে না বলে আশা প্রকাশ করে শেখ হাসিনা বলেন, ও রকম কিছু করলে সরকার আবারো ভুল করবে।
দেশে বিরাজমান জরম্নরি অবস্থায় এয়ারপোর্টে অভ্যর্থনার আয়োজন না থাকা সত্ত্বেও জনগণের বাধভাঙা উপস্থিতিতে বিপুল হর্ষধ্বনি আর জয় বাংলা সস্নোগানোর মধ্য দিয়ে স্বাগত জানানো হয় শেখ হাসিনাকে। নিষেধাজ্ঞা উপেৰা করে এয়ারপোর্টে সমবেত হাজারো মানুষের ভালোবাসা আর ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত হন তিনি।

গতকাল বিকাল ৪টা ৪০ মিনিটে ইতিহাদ এয়ারওয়েজের ইওয়াই-২৫৪ নাম্বারের একটি ফ্লাইটে শেখ হাসিনা ঢাকায় অবতরণ করেন। পেস্নন থেকে নামার পর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জিলস্নুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল জলিল শেখ হাসিনাকে ফুলের তোড়া দিয়ে স্বাগত জানান। এ সময় আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় নেতা জোহরা তাজউদ্দীন, তোফায়েল আহমেদ, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, আবদুর রাজ্জাক, মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, সাবের হোসেন চৌধুরী, আবদুল মান্নান, সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ, কর্নেল (অব.) ফারম্নক খান, অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, মুকুল বোস, শাহজাহান খানসহ নেতারা ভিআইপি লাউঞ্জে ছিলেন।

আনুষ্ঠানিকতা শেষে ঠিক ৫টায় এয়ারপোর্টের ভিআইপি লাউঞ্জে ঢোকেন শেখ হাসিনা। এ সময় এয়ারপোর্টে উপস্থিত দেশি-বিদেশি মিডিয়ার অসংখ্য রিপোর্টার ঘিরে ধরেন তাকে। শেখ হাসিনা আবেগাপস্নুত কণ্ঠে বলেন, আমি মানুষের ভালোবাসা আর দেশি-বিদেশি মিডিয়ার ভূমিকার কারণে দেশের মানুষের কাছে ফিরে আসতে পেরেছি, এটাই আজ বড় কথা। তিনি বলেন, আমাকে দেশে ফিরে আসতে বাধা দেয়ার বিষয়টি আমি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারিনি। শুধু আমি কেন, বিশ্বের কেউই তা মেনে নিতে পারেনি।

শেখ হাসিনা বলেন, দেশে ফিরতে বাধা দেয়ায় সরকার ভুল করেছে। আশা করছি এই ভুল আর তারা করবে না। দেশে ফিরে আসার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে সরকার শুভবুদ্ধির পরিচয় দিয়েছে বলে শেখ হাসিনা মনত্দব্য করেন। তিনি বলেন, এরপর যদি সরকার ও রকম কোনো সিদ্ধানত্দ নেয় তাহলে সরকার আবারো ভুল করবে।

দেশে ফেরার পর ভবিষ্যৎ কর্মকা- প্রসঙ্গে জানতে চাইলে শেখ হাসিনা এখনই এ বিষয়ে কিছু বলতে রাজি হননি। তিনি বলেন, প্রথমে সবার সঙ্গে দেখা করবো, কথা বলবো, তারপর এ ব্যাপারে যা বলার বলবো। দলের সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেবেন কি না এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া। এ বিষয়ে নতুন করে কিছুই বলার নেই। দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জিলস্নুর রহমান এরই মধ্যে সংস্কার প্রসঙ্গে দলের পৰ থেকে যে বক্তব্য দিয়েছেন তাকেই তিনি সমর্থন করেন। তিনি বলেন, বারবার সংস্কারের কথা বলা হলেও সংস্কার বলতে কি বোঝায় এখনো তা স্পষ্ট নয়।

ভিআইপি লাউঞ্জ থেকে শেখ হাসিনা বিকাল সোয়া ৫টায় বের হলে এয়ারপোর্ট এলাকা ও এর সামনের সড়কে উপস্থিত হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ শেখ হাসিনাকে ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে স্বাগত জানান। এ সময় ‘শেখ হাসিনার ভয় নাই রাজপথ ছাড়ি নাই’, ‘শেখ হাসিনা এগিয়ে চলো আমরা আছি তোমার সাথে’, ‘শেখ হাসিনার কিছু হলে জ্বলবে আগুন ঘরে ঘরে’ সস্নোগান দিয়ে শেখ হাসিনাকে বহনকারী গাড়ি এগিয়ে নিয়ে যায়। শেখ হাসিনার গাড়ির সঙ্গে হাজার হাজার লোক এয়ারপোর্ট থেকে হেটে কয়েক কিলোমিটার পর্যনত্দ এগিয়ে আসে। নেতাকর্মীদের হাতে শেখ হাসিনার ছবি, নৌকা প্রতীক বহন করতে দেখা যায়। রাসত্দার দু’ধারে দলীয় নেতাকর্মী ছাড়াও সমবেত সাধারণ মানুষ হাত নেড়ে শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানান।

এয়ারপোর্টের সামনের রাসত্দায় নেতাকর্মীদের সমবেত হওয়ার কারণে প্রায় দেড় ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। ফলে এয়ারপোর্ট থেকে ধানমন্ডি ৩২ নাম্বার পর্যনত্দ আসতে প্রায় পৌনে দুই ঘণ্টা সময় লাগে।

এদিকে এয়ারপোর্টে ঢুকতে গিয়ে সাংবাদিকদেরও হিমশিম খেতে হয়েছে। কেবল অ্যাক্রেডিটেশন কার্ডধারী রিপোর্টারদেরই ভিআইপি লাউঞ্জে ঢোকার অনুমতি দেয়া হয়।

রবিবার বাংলাদেশ সময় রাত ২টায় ইতিহাদ এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে শেখ হাসিনা লন্ডনের হিথরো এয়ারপোর্ট থেকে দেশের উদ্দেশে রওনা হন। দুবাইয়ে সংৰিপ্ত যাত্রাবিরতির পর একই এয়ারওয়েজের অন্য একটি ফ্লাইটে তিনি ঢাকা আসেন। আওয়ামী লীগ আমেরিকা ও লন্ডন শাখার কয়েক নেতাও শেখ হাসিনার সঙ্গে এসেছেন বলে জানা গেছে। এদের মধ্যে রয়েছেন ইউকে আওয়ামী লীগ সহসভাপতি সুলতান শরীফ, সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম, আমেরিকা আওয়ামী লীগ সভাপতি খালিদ হাসান, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান প্রমুখ।

উলেস্নখ্য, শেখ হাসিনা আমেরিকায় বসবাসরত তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের সঙ্গে দেখা করার জন্য গত ১৫ মার্চ আমেরিকা যান। গত ২৩ এপৃল তার ঢাকায় ফেরার কথা ছিল। কিন্তু কেয়ারটেকার সরকার ১৮ এপৃল এক প্রেস নোট জারির মাধ্যমে তার দেশে ফেরার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। অবশ্য ২৬ এপৃল সরকার অন্য একটি প্রেস নোটের মাধ্যমে ওই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে।

সূত্রঃ http://www.jaijaidin.com/details.php?nid=9122

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: