হাইকোর্টে সরকারের বৈধতা চ্যালেঞ্জ

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে। মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ক্ষমতায় থাকার বিষয়টি এই রিটে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। টাঙ্গাইলের বাসাইল থানার হারিছ চৌধুরীর স্ত্রী জোসনে আরা চৌধুরী বাদি হয়ে এ রিট আবেদন দায়ের করেন। আবেদনে প্রধান উপদেষ্টা ড. ফখরুদ্দীন আহমদ, যোগাযোগ উপদেষ্টা অবঃ মেজর জেনারেল এম এ মতিন, আইন উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন, শিল্প উপদেষ্টা বেগম গীতিআরা সাফিয়া চৌধুরী, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ড. ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী, অর্থ উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা মোহামমদ আজিজুল ইসলাম, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা তপন চৌধুরী, কৃষি ও মৎস্য উপদেষ্টা ড. চৌধুরী সাজ্জাদুল করিম, শিক্ষা উপদেষ্টা আইয়ুব কাদরী, স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা মোঃ আনোয়রুল ইকবাল, স্বাস্থ্য উপদেষ্টা অবঃ মেজর জেনারেল ডা. এ এস এম মতিউর রহমান এবং নির্বাচন কমিশনকে বিবাদি করা হয়েছে।
আবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টারা কোন ক্ষমতাবলে মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত আছেন? সংবিধান অনুযায়ী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দায়িত্ব হলো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্বাচন করা। কিন্তু সে সময়সীমা তারা অতিক্রম করেছেন। কাজেই তাদের ক্ষমতায় থাকার আর কোনো আইনগত অধিকার নেই। তারা যথাসময়ে নির্বাচন করতে ব্যর্থ হয়েছেন। তারা এমন কাজ করছেন, যার কোনো আইনগত ভিত্তি থাকবে না। তারা কোন ক্ষমতাবলে এসব পদে বহাল আছেন- এ বিষয়ে রুল ইস্যু করা হোক। একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্বাচন করার জন্য একটি নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে আবেদনে। একই সাথে নির্বাচন কমিশনকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানে কেন গড়িমসি করা হয়েছে তাও জানতে চাওয়া হয়েছে। আবেদনে আরো বলা হয়, অষ্টম জাতীয় সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর গত ১২ জানুয়ারি ড. ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হয়। সংবিধান অনুযায়ী তত্ত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর ৯০ দিনের মধ্যে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা। সংবিধানের ৫৮ (ঘ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সুনির্দিষ্ট মেয়াদ উল্লেখ না থাকলেও ওই অন্তর্বর্তী সময়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার একটি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনকে সকল প্রকার সহায়তা করবে। এ ছাড়াও সংবিধানের ১২৩ (৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কোনো অবস্থাতেই সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতাকে উপেক্ষা করা যাবে না। কিন্তু বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মেয়াদ ইতোমধ্যে অতিক্রান্ত হয়ে গেছে। এ ছাড়াও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্বাচন কমিশন নির্বাচন না করে সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন। আবেদনে আরো বলা হয়, সংবিধান অনুযায়ী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান দায়িত্ব হলো নির্বাচন অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা করা। কিন্তু তত্ত্বাবধায়ক সরকার তা না করে সংবিধান লঙ্ঘন করে অনেক গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছেন। এ ছাড়াও তত্ত্বাবধায়ক সরকার রাজনৈতিক সংস্কারের নামে বিভিন্ন আকর্ষণীয় রাজনৈতিক স্লোগান দিচ্ছে, যা তাদের এখতিয়ারবহির্ভূত। জনগণ সকল ক্ষমতার উৎস। তাই জনগণের ক্ষমতা নিশ্চিত করতে দ্রুত নির্বাচন অনুষ্ঠানের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা থাকা সত্ত্বেও নির্বাচন কমিশন নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। তাই নির্দিষ্ট সময়সীমা অতিক্রান্ত হওয়ার পর এবং যথাসময়ে নির্বাচন সম্পন্ন না করায় আবেদনকারী এ রিটটি দায়ের করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিচারপতি শাহ আবু নাঈম মোমিনুর রহমান এবং বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চে গতকাল রোববার রিট আবেদনটি দায়ের এবং রিটের ওপর শুনানি হয়।
আবেদনকারীর আইনজীবী সৈয়দ গোলাম মোস্তফা শুনানিতে অংশ নিয়ে বলেন, বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মেয়াদ ৯০ দিন। ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন না করে সরকার সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন। তিনি বলেন, এটি অন্তর্বর্তী সরকার হলেও এর নির্দিষ্ট মেয়াদ থাকতে হবে। যথাসময়ে নির্বাচন না হওয়ার বিষয়টি সংবিধানকে সংক্ষুব্ধ করেছে। এতে আদালত জানতে চান সুপ্রিমকোর্টের নির্বাচন কবে? জবাবে তিনি বলেন, তারও নির্দিষ্ট মেয়াদ থাকতে হবে। এতে আদালত বলেন, নির্বাচন মুখ্য বিষয়। নির্বাচনের প্রস্তুতি বা নির্বাচন বিষয়ে আবেদন নিয়ে এলে বিবেচনা করব। এতে আবেদনকারীর আইনজীবী গোলাম মোস্তফা বলেন, নির্দিষ্ট সময়ে নির্বাচন না হওয়ায় সংবিধানকে হতাশ করেছে। আদালত বলেন, হতাশ ঠিক নয়, নির্বাচন কমিশন স্বাধীন। কমিশন নির্বাচনের জন্য দুই বছর সময় নিয়েছে। আবেদনটির ওপর আংশিক শুনানির পর আদালত বলেন, আবেদনটি জনগুরুত্বপূর্ণ হলেও জরুরি নয়। আদালত বিষয়টির ওপর আগামী ১৬ মে পুনরায় শুনানির দিন ধার্য করেন।
শুনানি শেষে আবেদনকারীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট সৈয়দ গোলাম মোস্তফা উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও নির্বাচন কমিশন যোগসাজশে সংসদ নির্বাচন পিছিয়ে দিচ্ছে।

Source:দৈনিক নয়া দিগন্ত
Date:2007-05-07

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: