আজ মা দিবস

মা! যে শব্দ এক স্বর্গীয় পুণ্যতায় হৃদয়-মনকে অমিয় সুধায় প্লাবিত করে। ত্রিভুবনের সবচেয়ে মধুরতম অপার্থিব শব্দ। মা কথাটি ছোট্ট অতিঃ। কিন্তু মাণ্ডই বসুন্ধরা, মাণ্ডই কায়া-মায়া। মমতার আধার তার সহজাত মমত্ব, সর্বংসহা হৃদয় সন্তানকে আগলে রাখে অসামান্য দরদে। সন্তানের রোগে-শোকে মা-ও আক্রান্ত থাকেন একই তন্ত্রীতে। আল্লাহপাকের সেরা সৃষ্টি মায়ের মত আপন কেউ নাই। কেউ হতেও পারে না। ইংরেজ কবি রবার্ট ব্রাউনিং বলেছেন, ‘মাতৃত্বেই সকল মায়া-মমতা ও ভালবাসার শুরু এবং শেষ।’ ইসলাম মাকেই দিয়েছে সর্বোচ্চ সম্মান, মহামর্যাদা। ইসলামের শেষ নবী হযরত মোহাম্মদ (সঃ) স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন, ‘মায়ের পদতলে সন্তানের বেহেশত।’ মহান আল্লাহ পাক মাদের অন্তরে সন্তানের প্রতি সৃষ্টি করেছেন এক পরম মমত্ববোধ। সন্তান গর্ভে ধারণ করা হতে অপরিসীম কষ্ট-যন্ত্রণা ভোগের পর প্রসব। অতঃপর সন্তানের মুখে মা ডাক তাকে ভুলিয়ে দেয় দীর্ঘ দিবস-রজনীর যাতনা। আজ মা দিবস। বিশ্বের কৃতজ্ঞ সন্তানরা আজ পালন করবে মা দিবসকে নানা মাত্রায়।

প্রতিবছর মে মাসের দ্বিতীয় রবিবার বিশ্বব্যাপী মা দিবস পালিত হয়। সময়টা আজ থেকে দেড়শ’ বছর আগের। সপ্তাহের প্রতি রবিবারের সকালটা অ্যানা জারভিসের জন্য একদম অন্যরকম। নিজের প্রতিষ্ঠিত সানডে স্কুলে বাচ্চাদের দিতেন বাইবেল পাঠ। বাচ্চাদের দিকে তাকিয়ে এক অদ্ভুত অনুভূতি হতো তার নিজের। এদের মুখাবয়বে খুঁজে পেতেন নিজ মায়ের মুখ। ভালবাসা আর শ্রদ্ধায় বিনম্র হতে ইচ্ছে করত মায়ের প্রতি। এ বোধ থেকেই ১৯০৫ সালে মাকে ভালবাসা ও সম্মান জানাতে প্রবর্তন করেন মাদার্স ডে বা মা দিবসের। তবে যুক্তরাষ্ট্রে মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর স্বীকৃতি ও প্রসার ঘটে ১৯১৪ সালে। এরই ধারাবাহিকতায় আমেরিকার সাথে এবার ১৩মে ‘মা দিবসটি’ পালন করবে বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, কানাডা, চীন, রাশিয়া, জার্মানীসহ ৪০টি দেশ।

দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন কর্মসূচি পালন করবে।

বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আন্তর্জাতিক মা দিবসের প্রাক্কালে এক বাণীতে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল মাকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি দুনিয়ার সকল মায়ের দীর্ঘায়ু, সুস্বাস্থ্য এবং সুখী জীবন কামনা করেন। ‘পরিবারে মায়ের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’ উল্লেখ করে খালেদা জিয়া তাঁর বাণীতে বলেন, সন্তানদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে মায়েরা অসামান্য অবদান রাখেন। বেগম জিয়া বলেন, একটি জাতির শিক্ষিত হয়ে ওঠার পেছনে মায়েদের অবদান সবচেয়ে বেশি। যে পরিবারে মা শিক্ষিত সেই পরিবারের সন্তানেরা সহজেই সুশিক্ষিত হয়ে ওঠে। তিনি বলেন, এসব বিবেচনা করেই আমরা সরকারে থাকতে মেয়েদের শিক্ষার ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলাম। তিনি আন্তর্জাতিক মা দিবসের সকল কর্মসূচির সাফল্য কামনা করেন।

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা এক বাণীতে দিবসের সাফল্য কামনা করেছেন। বাণীতে তার সরকারের আমলে বিভিন্ন পদক্ষেপের উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশে মায়ের মর্যাদাকে আরও সুপ্রতিষ্ঠিত করার জন্য পাসপোর্ট এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভর্তি ফরমে মায়ের নাম বাধ্যতামূলক করা হয়। বয়স্ক মায়েদের জন্য ভাতার ব্যবস্থা করা হয়। চাকরিজীবী মায়েদের কষ্ট লাঘবের কথা বিবেচনায় রেখে সচিবালয়সহ বিভিন্ন ডে-কেয়ার সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা হয়। এছাড়াও তাদের কল্যাণে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হয়। আজ সমাজে এর সুফল পাওয়া যাচ্ছে।

Source:দৈনিক ইত্তেফাক
Date:2007-05-13

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: