টিআইবির রিপোর্ট গত বছর চট্টগ্রাম পোর্টে ৯৪৩ কোটি টাকা ঘুষ লেনদেন হয়

২০০৬ সালে চট্টগ্রাম পোর্টে আমদানি-রফতানি খাতে ৯৪৩ কোটি ৪৮ লাখ ৮৯ হাজার টাকা ঘুষ লেনদেন হয়। এর মধ্যে ডক শ্রমিক পরিচালনা বোর্ডের দুর্নীতির মাধ্যমে আত্মসাৎ হয়েছে বছরে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা। সারচার্জ ও রেট রেস্টোরেশনের নামে আমদানিকারকদের কাছ থেকে শিপিং কম্পানিগুলো ২০০৬ (জুন-সেপ্টেম্বর) ও ২০০৭-এর প্রথম দিকে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা আদায় করে। এছাড়া পোর্টে পণ্য খালাসে স্পিডমানি হিসেবে কমপৰে ৩০টি পয়েন্টে ঘুষ দেয়ার ঘটনাও ঘটেছে এ সময়ে। তবে পোর্টে যৌথ বাহিনীর কড়া নজরদারি ও সরকারের নেয়া বিভিন্ন ইতিবাচক সিদ্ধানত্দের কারণে এ বছরের মার্চ থেকে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে।

চট্টগ্রাম ও কাস্টমসের ওপর পরিচালিত ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) এক তথ্যানুসন্ধানী গবেষণা রিপোর্টে এসব অনিয়মের কথা বলা হয়েছে। এ উপলৰে গতকাল শনিবার চট্টগ্রাম চেম্বারের কনফারেন্স রম্নমে টিআইবি আয়োজিত ‘চট্টগ্রাম বন্দর : স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার জন্য চাই মৌলিক সংস্কার’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনার আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান রিটায়ার্ড লেফটেনান্ট জেনারেল হাসান মশহুদ চৌধুরী।

টিআইবি ট্রাস্টি বোর্ডের কোষাধ্যৰ এম হাফিজ উদ্দিন খানের সভাপতিত্বে রিপোর্ট উপস্থাপন করেন টিআইবির গবেষণা কর্মকর্তা তানভীর মাহমুদ। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন কাস্টমস ও বন্দরের সাবেক ও বর্তমান শীর্ষ কর্মকর্তা, চট্টগ্রাম চেম্বার প্রেসিডেন্ট সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, বিজিএমইএর সাবেক প্রেসিডেন্ট ফজলুল হক, সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সলিমুলস্নাহ, এফবিসিসিআইর সাবেক পরিচালক কামালউদ্দিন ও শিপার্স কাউন্সিল অফ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মাহবুব আলী।

রিপোর্টে বলা হয়, একটি জাহাজ পোর্টো জেটিতে ভেড়ানো ও বহির্নোঙরে নিয়ে যাওয়ার জন্য স্বাভাবিক অবস্থায় পাইলটরা ১০ হাজার টাকা ঘুষ নেয়। কিন্তু ওভার ড্রাফটিং জাহাজের ৰেত্রে এ হার সমঝোতার মাধ্যমে লৰাধিক টাকা পর্যনত্দ গড়ায়। অন্যদিকে বন্দরে শ্রমিকদের নির্ধারিত বখশিশ না দিলে তারা পণ্য হ্যান্ডলিং করে না অথবা কনটেইনার ফেলে দিয়ে ৰতি সাধন করে।

টিআইবির রিপোর্টে আরো বলা হয়, একটি অসাধু চক্রের মাধ্যমে ভুয়া শ্রমিকের নামে বা বদলি শ্রমিকদের কার্ড ব্যবসার মাধ্যমে বছরে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ হয়। পোর্টে অবৈধভাবে বিভিন্ন চার্জের নামে চাদা আদায় একটি নিয়ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বর্তমানে পোর্ট ও কাস্টমসে আট হাজারেরও বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত থাকলেও অনুমোদিত পদের বিপরীতে পোর্টে শূন্য পদ প্রায় ৩১ দশমিক ৯ শতাংশ এবং কাস্টমসে ৩৩ দশমিক ৩ শতাংশ। কারণে-অকারণে আমদানিকারকদের রিট মামলার কারণে একদিকে প্রতি বছর অনাদায়ী রাজস্বের পরিমাণ বাড়ছে, অন্যদিকে বিঘি্নত হচ্ছে চট্টগ্রাম কাস্টমস দফতরের কার্যক্রম। ২০০৭ সালের ফেব্রম্নয়ারি পর্যনত্দ এ ধরনের মামলার সংখ্যা ছিল ১০ হাজার ৩৩।

রিপোর্টে বলা হয়, এ পোর্টের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও উন্নত মানের নয়। বন্দরের অব্যবস্থাপনা বিদেশি জাহাজে ডাকাতির মতো ঘটনাকে উৎসাহিত করছে।

এ বছর দেশে জরম্নরি অবস্থা জারি এবং পরে যৌথ বাহিনীর কড়া নজরদারি ও সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধানত্দের কারণে গত মার্চ থেকে চিটাগং পোর্টে দুর্নীতি পরিস্থিতির কিছু উন্নতি লৰ্য করা যায় বলে টিআইবির রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে।

টিআইবি তার গবেষণা রিপোর্টে চিটাগং পোর্টকে দেশের অর্থনীতির একটি শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে এর মৌলিক সংস্কার ও দুর্নীতি রোধ করে টেকসই উন্নয়ন ঘটানো, পোর্ট ও শুল্ক ভবনের কার্যক্রম অনলাইনে পরিচালনা করা, পোর্ট অথরিটি অ্যাক্ট ১৯৭৬ সংশোধন, দৰ জনবল নিয়োগ, পোর্টকে অত্যাবশ্যকীয় সেবা দানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচনা করে সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকা- নিষিদ্ধ ঘোষণা করা, অনিয়ম ও দুর্নীতির ৰেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি প্রণয়ন করা, একটি মনিটরিং সেল গঠন করা, বাণিজ্যিকীকরণের লৰ্যে ল্যান্ড লর্ড পদ্ধতিতে পোর্টে পণ্যের লোডিং ও খালাস কার্যক্রম বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় দেয়া, কনটেইনার রাখার স্থান বাড়ানো, দ্রম্নত ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোর (আইসিডির) পরিমাণ বাড়ানো, সিসিটিভি, ভিটিএ সিস্টেম চালুসহ নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নত করা ও স্ক্যানার মেশিনের মাধ্যমে সব ধরনের পণ্যের সত্যতা যাচাই নিশ্চিত করা এবং গৃন চ্যানেল সুবিধার অপব্যবহার রোধ করার জন্য পরামর্শ দিয়েছে।

সূত্রঃ http://www.jaijaidin.com/details.php?nid=9825

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: