বিএনপিতে মাইনাসপন্থী খালেদাপন্থীরা মুখোমুখি

বিএনপি মহাসচিব আব্দুল মান্নান ভুঁইয়ার নেতৃত্বে দলের অর্ধশতাধিক সাবেক এমপিসহ শতাধিক কেন্দ্রীয় নেতা এখন সুসংগঠিত। তারা সবাই দলের চেয়ার পারসন খালেদা জিয়াকে মাইনাস করে বিএনপিতে আমূল সংস্কারের পক্ষে। অপরদিকে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব) হান্নান শাহ ও খালেদা জিয়ার ছোট ভাই দলের নবনিযুক্ত সহসভাপতি সাঈদ এস্কান্দারসহ জিয়া পরিবার সমর্থিত নেতারা খালেদা জিয়ার নেতৃত্বেই দলের সার্বিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার পক্ষে। এ পক্ষের নেতারা বলছেন, যারা খালেদা জিয়ার সিদ্ধান্তের বাইরে কথা বলছেন তাদের বির”দ্ধে যথাসময়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মূলত বিএনপিতে সংস্কারপন্থী ও খালেদাপন্থীরা এখন মুখোমুখি অবস্থানে। তবে দলে সক্রিয় নেতাদের বেশিরভাগ নেতা মান্নান ভুঁইয়া ও তার অনুসারীদের পক্ষে থাকায় বিএনপির নিয়ন্ত্রণ এখন সংস্কারপন্থীদের হাতে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বিএনপি সূত্র জানায়, দল ও দলের শীর্ষনেতাদের বির”দ্ধে ঢাকা মহানগর বিএনপির সভাপতি ও সিটি মেয়র সাদেক হোসেন খোকা এবং কেন্দ্রীয় নেতা ড. ওসমান ফার”ক কঠোর ভাষায় সমালোচনা করার পর সারা দেশের সর্বস্তরের বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। এ পরিস্থিতিতে সংস্কারপন্থী নেতাদের খালেদা জিয়া চুপ থাকার কথা বললেও ড. ওসমান ফার”ক গতকাল শনিবারও তার পূর্বের অবস্থান বজায় রেখে কথা বলেছেন। গতকাল দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য এম সাইফুর রহমানও সংস্কারের পক্ষে কথা বলেছেন। গতকাল একটি বেসরকারী টিভি চ্যানেলকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, পরিবারতন্ত্র থেকে বিএনপিকে মুক্ত করতে হবে। প্রয়োজনে গঠনতন্ত্র পরিবর্তন করতে হবে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বর্তমান পরিস্থিতিতে মহাসচিব আব্দুল মান্নান ভুঁইয়ার নেতৃত্বাধীন অংশের গ্রহণযোগ্যতা সারা দেশের সর্বস্তরের দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে রয়েছে। কিন’ বিএনপি-জামাত জোট সরকারের আমলে ব্যাপক দুর্নীতি ও লুটপাটের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকায় জিয়া পরিবার সমর্থিত নেতাদের ওপর তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীর ক্ষোভ ও অসন্তোষ রয়েছে। এছাড়া বর্তমানে হান্নান শাহ ছাড়া খালেদা জিয়ার পক্ষে কেউ কোনো কথা বলছেন না। কিন’ হান্নান শাহর সঙ্গে সর্বস্তরের দলীয় নেতাকর্মীদের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ না থাকায় তার কথা হালে পানি পাচ্ছে না। এছাড়া খালেদা জিয়া চুপ করে ঘরে বসে থাকায় এবং হান্নান শাহর ভাষ্যমতো বিদেশ যাওয়ার ব্যাপারে এখনো তার ওপর চাপ থাকায় সকল স্তরের দলীয় নেতাকর্মীদের কাছ থেকে তিনি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। এছাড়া দুর্নীতির দায়ে জ্যেষ্ঠপুত্র তারেক রহমান জেলখানায় বন্দী থাকায় সারা দেশের তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে জিয়া পরিবার সম্পর্কে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে জিয়া পরিবার সমর্থিত নেতাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক রয়েছে এমন এক সূত্র জানিয়েছে, যারা চেয়ারপারসনের অনুমতি না নিয়ে মিডিয়ার কাছে ‘উল্টা-পাল্টা’ বক্তব্য দিয়ে বেড়াচ্ছেন, দল ও দলের চেয়ারপারসনের বির”দ্ধে কথা বলছেন তাদের বির”দ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবেন খালেদা জিয়া। সাদেক হোসেন খোকা ও ড. ওসমান ফার”ক তাদের বক্তব্যের জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা না চাইলে তাদের বির”দ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে দল ও দলের চেয়ারপারসনের নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জ করে প্রকাশ্যে বক্তব্য দেওয়ার পরও খালেদা জিয়া কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় সংস্কারপন্থী বিএনপি নেতারা এখন দিন দিন আরো সাহসী হয়ে উঠছেন। তাদের কোনো ভয় নেই ওপর মহল থেকে এমন মেসেজ পেয়ে সংস্কারপন্থীরা একে একে কথা বলতে শুর” করেছেন।
সংস্কারপন্থী বিএনপি নেতা ড. ওসমান ফার”ক গতকালও সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেছেন, খালেদা জিয়ার ভাই সাঈদ এস্কান্দারকে বিএনপির সহসভাপতি নিয়োগ করা ঠিক হয়নি। দেশের মানুষ রাজনৈতিক দলের মধ্যে এখন আর পরিবারতন্ত্র দেখতে চায় না। যখন দলে সংস্কারের কথা উচ্চারিত হচ্ছে সেই সময় এই নিয়োগ প্রশ্নসাপেক্ষ। তিনি বলেন, আজ হোক, কাল হোক দলে সংস্কার করতেই হবে।
অপরদিকে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব) হান্নান শাহ গতকাল সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, যারা আজ দল ও দলের চেয়ারপারসনের বির”দ্ধে কথা বলছে বিএনপি ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় তারাই সবচেয়ে বেশি সুবিধা নিয়েছে। বিএনপির ত্যাগী নেতাকর্মীরা এখনো খালেদা জিয়ার সঙ্গেই রয়েছেন। আর সুবিধাবাদীরাই বিতর্কিত বক্তব্য দিচ্ছেন। তাদের বির”দ্ধে যথাসময়ে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমান সরকারের আমলে বিএনপি নেতাদের অযথা হয়রানি করা হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সংস্কারপন্থী আরেক বিএনপি নেতা সাদেক হোসেন খোকা বলেন, আজ কোনো কথা বলবো না। তবে আগামীকাল যোগাযোগ করলে কথা বলবো।
সাবেক অর্থমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এম সাইফুর রহমান তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রাজনৈতিক দলে সংস্কারের উদ্যোগকে স্বাগত জানান। গতকাল বেসরকারী টিভি চ্যানেল এনটিভিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, পরিবারতন্ত্র থেকে বিএনপিকে মুক্ত করতে হবে। প্রয়োজনে গঠনতন্ত্র পরিবর্তন করতে হবে। তিনি আরো বলেন, চেয়ারপারসনের একক সিদ্ধান্তে সাঈদ এস্কান্দারকে বিএনপির সহসভাপতি নিয়োগ করা বিনা মেঘে বজ্রপাতের সামিল।

Source:ভোরের কাগজ
Date:2007-05-13

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: