কারো ইঙ্গিতে আ’লীগে সংস্কার হবে না : হাসিনা

শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগে যতো সংস্কার হয়েছে দেশের অন্য কোনো রাজনৈতিক দলে এতো সংস্কার হয়নি। আলাদা করে কারো ইঙ্গিতে আওয়ামী লীগে সংস্কার প্রয়োজন নেই। প্রয়োজন হলে সবার মতামত নিয়ে কাউন্সিলের মাধ্যমে এ বিষয়টি দেখা হবে। শেখ হাসিনা আবার বলেছেন, পরবর্তী কাউন্সিল অধিবেশনে তার বিরম্নদ্ধে প্রার্থী থাকলে তিনি দলীয় সভানেত্রীর পদ থেকে সরে যাবেন।

গতকাল ধানমন্ডির সুধা সদনে দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে আলাপকালে শেখ হাসিনা এ কথা বলেন। এ সময় তিনি দ্রব্যমূল্যের অসহনীয় পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বলে দলের সিনিয়র এক নেতা যায়যায়দিনকে জানিয়েছেন। এ সময় সিনিয়র নেতারা তাদের মনোভাব ব্যক্ত করেন। তারা বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতি এবং সময়ের প্রয়োজনে দলের গঠনতন্ত্র ও ঘোষণাপত্র সংস্কার করা যেতে পারে।
এদিকে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার বাসভবন সুধা সদনে প্রবেশে কড়াকড়ি শিথিল অবস্থায় রয়েছে। তবে সুধা সদনকে ঘিরে এখনো রাখা হয়েছে তিন সত্দর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা বাধা ছাড়াই প্রবেশ করছেন সুধা সদনে। এছাড়া ঢাকার বাইর থেকে আসা নেতাকর্মীরা ও শেখ হাসিনার আত্মীয়স্বজনও দেখা করছেন তার সঙ্গে সহজে। সে ৰেত্রে নিরাপত্তায় নিয়োজিত কর্মকর্তা ও পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা প্রতিটি সত্দরে আসা লোকজনের প্রত্যেকের পরিচয় জেনেই প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছে।

শেখ হাসিনার সঙ্গে সুধা সদনে দেখা করতে আসা একাধিক নেতাকর্মীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নেতাদের সঙ্গে কুশল বিনিময়কালে শেখ হাসিনা প্রথমেই বিভিন্ন সত্দরের নেতাকর্মীদের খোজ-খবর নিচ্ছেন। এরপর তাদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনায় উঠে আসছে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি, রাজনৈতিক দলের সংস্কার, নির্বাচন কমিশন সংস্কার, দুর্নীতি ইত্যাদি বিষয়।

সূত্র জানায়, দলের সংস্কার প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা অনেকের সঙ্গেই খোলামেলা কথা বলছেন। তিনি বলেন, এতোদিনে আওয়ামী লীগে যতো সংস্কার হয়েছে তা আর অন্য কোনো দলে হয়নি। এর আগে ২০০২ সালে অনুষ্ঠিত কাউন্সিলেই আওয়ামী লীগকে একটি যুগোপযোগী ও শক্তিশালী দল হিসেবে জনগণের কাছে উপস্থাপন করতে দলে প্রয়োজনীয় সংস্কারের প্রসত্দাব দেয়া হয়েছে। এছাড়া দলের জন্মলগ্ন থেকেই এর সংস্কার চলছে। ফলে আলাদা করে কারো কোনো ইঙ্গিতে দলের সংস্কারের দরকার নেই।

শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত বিশেষ সহকারী আওয়ামী লীগ নেতা হাসান মাহমুদ যায়যায়দিনকে বলেন, দলীয়ভাবে এসব বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে না। তবে নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলাপচারিতায় বর্তমান পরিস্থিতি উঠে আসছে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগে সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া। বর্তমান অবস্থার পরিপ্রেৰিতে এবং সময়ের প্রয়োজনে দলের গঠনতন্ত্র এবং ঘোষণাপত্র সংস্কার করা হতে পারে। তবে দেশ ও জাতির প্রয়োজনে আওয়ামী লীগের সংস্কার আওয়ামী লীগই করবে। ঘরোয়া রাজনীতি শুরম্ন হলেই এ বিষয়ে নেতারা আলোচনা শুরম্ন করবেন বলে জানান তিনি।

গতকাল সকালে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আবদুল জলিল, আওয়ামী নেতা সাজেদা চৌধুরী, অধ্যাপক আবু সায়ীদ, শেখ ফজলুল করিম সেলিম ও মুকুল বোসসহ নেতাকর্মীরা দেখা করেন শেখ হাসিনার সঙ্গে। সন্ধ্যায় সুধা সদনে যান আওয়ামী লীগ নেতা মতিয়া চৌধুরী, সুবিদ আলী ভূইয়া, এ এস এইচ কে সাদেক, অ্যাডভোকেট আবদুল হামিদ প্রমুখ। এছাড়া ঝিনাইদহ থেকে কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা, চট্টগ্রামের সাবেক এমপি আটককৃত রফিকুল আনোয়ারের (সোনা রফিক) স্ত্রী ও কন্যা তার সঙ্গে দেখা করেন।

সূত্রঃ http://www.jaijaidin.com/details.php?nid=9932

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: