জেলা ও উপজেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগের প্রস্তুতি

সরকার দেশের সব জেলা ও উপজেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগের জন্য একটি তালিকা প্রস্তুত করেছে। স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক যাচাই-বাছাই করে জনগণের সঙ্গে সম্পর্কিত প্রতিনিধিত্বশীল ব্যক্তিদের মধ্য থেকে এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে। সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলেই এই তালিকা অনুযায়ী প্রশাসক নিয়োগ দেয়া হবে। ইতিমধ্যে দেশের ৪৮৪টি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদে মনোনীত প্রশাসকদের ছবিসহ জীবনবৃত্তান্ত স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া হয়েছে। ৬১টি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদে মনোনীত প্রশাসকদের তালিকাও তৈরি করা হয়েছে। একটি সূত্র জানায়, নির্বাচনের আগে এসব জেলা ও উপজেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগের সাংবিধানিক সুযোগ আছে কিনা তা খতিয়ে দেখছে আইন মন্ত্রণালয়।

বিএনপি-আওয়ামী লীগের ব্যর্থতার পর এবার স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং গ্রামীণ জনপদে উন্নয়নের প্রাণচাঞ্চল্য ফিরিয়ে আনতে এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সেনাশাসক এরশাদের শাসনামলে জেলা পরিষদ ও উপজেলা পরিষদ প্রতিষ্ঠা ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। গ্রামীণ জনপদের উন্নয়ন গতি পায় এবং উপজেলা পরিষদ হয়ে দাঁড়ায় মানুষের সুখ-দুঃখের আশ্রয়স্থল। অন্যদিকে ’৮৫ ও ’৮৯ সালে দুই দফা অনুষ্ঠিত উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচনের মধ্য দিয়ে তৃণমূল পর্যায়ে নতুন নেতৃত্বও বেরিয়ে আসে। ’৯১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এসে জেলা ও উপজেলা পরিষদ বাতিল করে দেয়। ’৯২ সালের ৩০ জুলাই সুপ্রিমকোর্টের রায়ে প্রতিষ্ঠান দুটিকে প্রশাসনিক একাংশ ঘোষণা করে ওইদিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে উপজেলা ও জেলা পরিষদ নির্বাচন করতে সরকারকে নির্দেশ দেয়া হয়। কিন’ সরকার এই নির্দেশ পালন না করে ছয় মাস পরপর সময়সীমা বাড়িয়ে তাদের মেয়াদ পার করে দেয়। ’৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার পর একই কৌশল গ্রহণ করে। তবে ’৯৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার, ‘উপজেলা পরিষদ আইন-৯৮’ পাস করলেও দলের অভ্যন্তরে বিরোধ দেখা দিতে পারে এ আশংকায় আর নির্বাচনের আয়োজন করেনি। নির্বাচন না হওয়ায় স্থানীয় সরকারের শক্তিশালী এই স্তরটি অকার্যকর হয়ে যায়। ক্ষমতায় থাকাকালে আওয়ামী লীগ নির্বাচন না করে বরং নির্বাচন অনুষ্ঠানের ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের বদলে সরকারের এখতিয়ারে নিয়ে নেয়। ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি জোট দেশবাসীর কাছে উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠানের ওয়াদা করলেও তা পূরণ করেনি। ক্ষমতায় এসেই তারা নির্বাচন করার এখতিয়ার নির্বাচন কমিশনের কাছে ফিরিয়ে দেয়ার উদ্যোগ নেয়। স্থানীয় সরকারমন্ত্রী আবদুল মান্নান ভূঁইয়ার নেতৃত্বে একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি দু-তিন দফা বৈঠকও করে। কিন্তু ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা উপজেলা ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের তীব্র বিরোধিতা করেন। তার সঙ্গে সায় দেন অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান। তাদের যুক্তি ছিল, উপজেলা হলে চেয়ারম্যানদের সঙ্গে সাংসদদের মতপার্থক্য দেখা দেবে। পরে তীব্র মতবিরোধের কারণে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারেনি সরকার। তিনটি সরকার আদালতের কাছ থেকে ৩১ বার সময় নিলেও উপজেলা নির্বাচন আয়োজন করতে পারেনি।

ওয়ান ইলেভেনের পর বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় এসে রাজনৈতিক সংস্কারসহ ব্যাপক কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। ২০০৮ সালের ডিসেম্বর বা ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের চূড়ান্ত লক্ষ্য থাকলেও তার আগে ভোটার আইডি কার্ড তৈরির পর আগামী বছরের শুরুতে সাড়ে ৪ হাজার ইউনিয়ন পরিষদ ও মাঝামাঝি সময়ে উপজেলা নির্বাচনের চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। বর্তমানে গ্রামীণ জনপদে রাস্তাঘাট, ব্রিজ, কালভার্ট নির্মাণ, ভিজিএফ, ভিজিডি কার্ড বিতরণসহ নানা কর্মকাণ্ড জেলা ও উপজেলা পরিষদের হাতে দিতে চায়। স্থবির হয়ে পড়া গ্রামীণ উন্নয়নে গতি আনতেও জেলা ও উপজেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দিতে চায়। এতে ভবিষ্যতে জাতীয় সংসদ সদস্যদের আর স্থানীয় সরকারের কর্মকাণ্ডে হস-ক্ষেপ করতে হবে না। তারা তাদের ওপর অর্পিত আইন প্রণয়নসহ নীতিনির্ধারণে ভূমিকা রাখতে পারবেন।

Source:দৈনিক যুগান্তর
Date:2007-05-14

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: