পদে পদে নির্যাতন শোষণ পথশিশুদের জীবন-২

পথশিশুরা সাধারণত কি রকম সমস্যায় পড়ে, তা জানতে চাওয়া হয়েছিল এদের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে এ রকম কয়েকটি সংগঠনের কাছে। তারা জানায়, পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে অথবা না হয়ে সর্বপ্রথমই এরা নিজের ওপরে বিশ্বাস হারায়। নিজেকে খুব অসহায় ভাবে। এক ধরনের হতাশা, ভয় কাজ করতে থাকে তাদের ভেতরে।

দ্বিতীয়ত পারিবারিক জীবনের অভ্যসত্দতা থেকে বেরিয়ে এসে নতুন রূঢ় বাসত্দবতা মানিয়ে নিতে হয়। প্রথম প্রথম রাতে ফুটপাথে বা স্টেশন-টার্মিনালে ঘুমানোর সময় মশার কামড় এবং পিঠের নিচে কিচকিচে বালুর ঘষা খুব যন্ত্রণা দেয়। আবার ‘অবৈধ’ জায়গায় ঘুমানোর অপরাধে পুলিশের পিটুনি, দাবড়ানি এবং অন্যদের গালাগাল শুনতে হয়। চুরির অপরাধে মার খাওয়ার ঘটনা প্রথম প্রথম বেশি ঘটে। এরা অনেক সময়ই স্টেশন-টার্মিনালের বড় কুলিদের দ্বারা নির্যাতিত হয়। কারণ যাত্রীরা কম পয়সার আশায় শিশুদের দিয়ে বোঝা টানাতে চাইলেও বড় কুলিরা তাদের জীবিকার ওপর হাত দেয়ার ‘অপরাধে’ ছোটদের ওপর নানা অজুহাতে নির্যাতন চালায়। এ ৰেত্রে পুলিশও বড় কুলিদের পৰ নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

মেয়েশিশু হলে প্রথমেই সে অন্যের দ্বারা, বিশেষ করে বড় পথশিশুদের দ্বারাই সেক্সুয়ালি অ্যাবিউসড হয়। এটা অধিকাংশ সময়ই ঘটে প্রেমের ভান করে। আর মেয়েদের বয়স ১২/১৩ বছর হলেই তাকে দিয়ে যৌন ব্যবসার একটা ঝুকি তৈরি হয়। ছেলেশিশুরাও যৌন শোষণের শিকার হয়। এতে করে নানা রকম যৌন রোগের (এসটিডি) প্রকোপ বাড়ে।

পথশিশুদের দিয়ে হরতালসহ নানা আন্দোলনে পিকেটিং করানো হয়। কারণ তাদের চাহিদা খুব কম। ২০ টাকা পেলেই একটা গাড়ির গস্নাস তাক করে ইট ছুড়ে মারতে তার দ্বিধা হয় না। আবার পলিটিশিয়ানরাও এদের ব্যবহার করেন। কারণ এরা ধরা পড়লে রাজনৈতিকভাবে ঝুকি কম, পুলিশ ধরলেও ছেড়ে দেয়।

পথশিশুদের দিয়ে সামাজিক নানা অপরাধ, যেমন মাদকদ্রব্য এমনকি অস্ত্র পাচারের মতো কাজও করানো হয়।

অসুখ-বিসুখে কখনোই এরা ভালো চিকিৎসা পায় না। দয়া করে কেউ হসপিটাল পর্যনত্দ পৌছে দিলেও কর্তৃপৰ প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে রিলিজ করে দেয়। এ রকমই এক ঘটনা ঘটে গত ২৮ এপৃল। ওইদিন রাতে আল আমিন (১২) নামে এক পথশিশু রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এইচআরসি ভবনের নিচে একটা ভ্যান গাড়িতে ঘুমিয়ে ছিল। হঠাৎ গাড়ি থেকে নিচে পড়ে গেলে তৎৰণাৎ একটি বাস এসে তার পায়ের ওপর দিয়ে চলে যায়। তার বাম পা গুড়ো হয়ে যায়। এক পথচারী তাকে পঙ্গু হসপিটালে ভর্তি করলেও পরদিন হসপিটাল কতর্ৃপৰ তার নাম কেটে দেয়। পরে সমাজসেবা অধিদফতরের প্রচেষ্টায় তাকে আবার ভর্তি করা হয়।

পথশিশুদের নিয়ে কাজ করে বেসরকারি সংস্থা পদৰেপের কারওয়ান বাজার শেল্টার হোমের ইনচার্জ সামিয়া সুলতানা অভিযোগ করেন, ‘এসব সুবিধাবঞ্চিত শিশু সরকারি হসপিটালে চিকিৎসা নিতে গেলে চিকিৎসা শেষ না হতেই কর্তৃপৰ তাদের নাম কেটে দেয়। যেতে না চাইলে তাদের জোর করে আয়া ডেকে ট্রলিতে তুলে রাসত্দায় ফেলে আসে।’ তিনি এসব অসহায় শিশুর চিকিৎসার জন্য প্রতিটি হসপিটালে অনত্দত পাচটি সিট বরাদ্দ রাখা উচিত বলে মনত্দব্য করেন।

সূত্রঃ http://www.jaijaidin.com/details.php?nid=9939

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: