পুলিশী নজরদারিতে পুলিশ

পুলিশের অভ্যন্তরে পুলিশ। পুলিশ প্রশাসনের ভিতরে অজানা সব ধরনের খবর অনুসন্ধানের কাজ শুরু হয়েছে। গত শনিবার থেকে সারাদেশে পুলিশ প্রশাসনের আট পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের কাজে প্রায় ৪শ’ জন কর্মকর্তা ও সদস্যকে নামানো হয়েছে। পুলিশের আইজি নূর মোহাম্মদের ভাষায়, এদের কাজকে কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স হিসাবে মনে করার কোন কারণ নেই। তারা কি নামে পরিচিত হবে সে ব্যাপারে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে আরো কিছুদিন সময় লাগবে। তবে প্রাথমিকভাবে পিআইও, আইওইউ এবং পিভিটি এই তিনটি নামের মধ্যে যে কোন একটি নামে এরা পরিচিত হবে। সারাদেশে কাজ করলেও তারা থাকবে সরাসরি পুলিশ সদর দফতরের নিয়ন্ত্রণে।

পুলিশ সদর দফতর জানায়, কর্মকর্তা ও সদস্য মিলে ৪শ’ জনের কার্যক্রমের সার্বিক দায়িত্বে রয়েছেন পুলিশ সদর দফতরের ডিআইজি বেনজীর আহমেদ। ডিআইজি ছাড়াও চারজন পুলিশ সুপার ও আটজন সহকারী পুলিশ সুপার রয়েছেন। রাজধানীতে থানা, জোন, ক্রাইম ডিভিশন, ফাঁড়ি, চেকপোস্ট অনেক বেশি। আর এ জন্যে ৪০ জন রাজধানীতে কাজ করছে। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকায় ২০ জন, খুলনা মেট্রোপলিটন, রাজশাহী মেট্রোপলিটন, বরিশাল মেট্রোপলিটন এবং সিলেট মেট্রোপলিটন এলাকায় ১০ জন করে ৪০ জনকে নামানো হয়েছে। বড় ১৯টি জেলায় ১১৪ জন এবং অপর ৪৩টি জেলার প্রতিটিতে চারজন করে ১৭২ জন কাজ করছে।

গতকাল রবিবার থেকে পুলিশের অভ্যন্তরের অজানা খবর পুলিশ সদর দফতরে আসতে শুরু করেছে। আইজিপি নূর মোহাম্মদ ইত্তেফাককে বলেন, পরীক্ষামূলকভাবে কাজ শুরু হয়েছে। যাদেরকে অনুসন্ধানের কাজে নামানো হয়েছে তাদের পরিচয়ের জন্যে নাম চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। একাধিক নামের মধ্যে প্রাথমিকভাবে তিনটি বাছাই করা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে পুলিশ ইন্টারনেল ওভারসাইড (পিআইও), ইন্টারনেল ওভারসাইড ইউনিট (আইওইউ) এবং পুলিশ ভিজিলেন্স টিম (পিভিটি)। এই তিনটি নামের মধ্যে যে কোন একটিকে চূড়ান্ত করা হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এরা কনস্টেবল থেকে শুরু করে ডিআইজি পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের ব্যাপারে পুলিশ সদর দফতরে রিপোর্ট পাঠাবে। স্থানীয় লোকদের সাথে পুলিশের সম্পর্ক, অপরাধীদের সাথে যোগাযোগ, থানা, ফাঁড়ি, চেকপোস্ট, দিন-রাতের টহল, সার্কেল এএসপি অফিস, পুলিশ সুপার অফিস, রেঞ্জ ডিআইজি অফিস, পুলিশ লাইন, পুলিশ মেস, পুলিশ ব্যারাক, মেট্রোপলিটন এলাকায় জোনাল এসি, ডিসি, জয়েন্ট কমিশনারের অফিস কিভাবে চলছে তার বিস্তারিত তথ্য থাকবে রিপোর্টে। বিশেষ করে মফস্বলের হাট-বাজার, বাসস্ট্যান্ড, বাস স্টপেজ, লঞ্চ ঘাট, বাস টার্মিনালে লোকদের সাথে কথাবার্তা বলবে অনুসন্ধানকারীরা।

আইজিপি নূর মোহাম্মদ আরো জানান, পুলিশ প্রশাসনে ডিআইজি থেকে ফাঁড়ি পর্যন্ত প্রতিটি অফিস সুপারভিশন করার নিয়ম রয়েছে। তবে সুপারিভশনে ‘ম্যানেজ’ শব্দটি ছিল বলেই অনেক খবর আড়ালেই থেকে যেত। এবার আর সেটি হবে না। পুলিশের ভালো-খারাপ উভয় চিত্রই বেরিয়ে আসবে বর্তমান অনুসন্ধান ব্যবস্থায়। ফলে যে বা যাদের বিরুদ্ধেই নেতিবাচক কোন কিছু পাওয়া গেলে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে।

Source:দৈনিক ইত্তেফাক
Date:2007-05-14

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: