সাবেক এমপি আলমগীর ফরিদ আটক শাহ জাফর কারাগারে

কক্সবাজার-২ আসনের (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) বিএনপিদলীয় সাবেক সংসদ সদস্য আলমগীর মোহামমদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ ও মহেশখালীর হোয়ানক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু তাহের সিকদারকে ঢাকার জাতীয় সংসদ ভবন এলাকা থেকে র‌্যাব সদস্যরা গতকাল বিকেল ৩টায় আটক করেছে। এদিকে, ত্রাণের টিন আত্মসাৎ মামলায় ফরিদপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শাহ মোঃ আবু জাফরের জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
কক্সবাজার সংবাদদাতা জানান, আটক সাবেক সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে দেশের ঐতিহ্যবাহী পর্যটন সপট সোনাদিয়ার প্যারাবন নিধন ও চাঁদাবাজিসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, ঢাকার শেরেবাংলা নগরে জাতীয় সংসদ ভবন সংলগ্ন ন্যাম ভবন থেকে র‌্যাব-৩ এর একটি দল আলমগীর মোহামমদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ ও আবু তাহের সিকদারকে আটক করে। দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা ও যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযান শুরু হওয়ার পর আলমগীর ফরিদ ও তার সহযোগীরা গা ঢাকা দেন। নৌবাহিনীর সদস্যরা মহেশখালীস্থ তার গ্রামের বাড়িতে একাধিকবার অভিযান চালিয়েও তাকে আটক করতে পারেনি। তবে তার গ্রামের বাড়ি থেকে বিদেশী রিভলবারসহ বেশ কিছু অস্ত্র উদ্ধার করে যৌথ বাহিনী। অভিযোগ রয়েছে আলমগীর ফরিদ ও তার আত্মীয়স্বজন মিলে বিগত জোট সরকারের আমলে দেশের অন্যতম পর্যটন সপট সোনাদিয়ার শত শত একর প্যারাবন নিধন করে চিংড়ি প্রকল্প তৈরি করেন। এ ছাড়া বিগত সরকারের আমলে সাধারণ মানুষের জমি দখল, চিংড়ি প্রকল্প দখল এবং লুটপাট চালায় তার বাহিনী। একে একে দখল করে নেয় একাধিক চিংড়ি ঘের। তার বাহিনী ও পুলিশ লেলিয়ে দিয়ে শত শত নিরীহ ব্যক্তিকে এলাকাছাড়া করা হয়। তার ভাতিজা হাবিবুল্লা মহেশখালীর প্রধান সড়কে চলাচলকারী দু শতাধিক যানবাহনের মালিককে জিমিম করে ব্যাপক চাঁদাবাজি করে। আলমগীর ফরিদের লালিত সন্ত্রাসীরা বিভিন্ন এলাকায় উপসন্ত্রাসী বাহিনী গঠন করে পুরো এলাকায় এক অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। আটক আবু তাহের সিকদারের বিরুদ্ধেও নানা অভিযোগ রয়েছে।
শাহ আবু জাফরের জামিন নামঞ্জুর
ফরিদপুর অফিস জানায়, জেলা ও দায়রা জজ আদালত ত্রাণের টিন আত্মসাৎ মামলায় ফরিদপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শাহ মোঃ আবু জাফরের জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে প্রেরণ করেছেন। গতকাল রোববার দুপুরে তাকে ফরিদপুর জেলা কারাগার থেকে কাশিমপুর কারাগারে পাঠানো হয়।
গতকাল বেলা ১১টার দিকে জেলা ও দায়রা জজ মোঃ আবদুল মজিদের আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেন শাহ মোঃ আবু জাফর। বিজ্ঞ আদালত আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন। এ সময় শাহ জাফরের আইনজীবী সাবেক এই সংসদ সদস্যকে কারাগারে ডিভিশন প্রদানের আবেদন জানালে আদালত আবেদন মঞ্জুর করেন।
গত ১৬ ফেব্রুয়ারি যৌথ বাহিনী অভিযান চালিয়ে শাহ মোঃ আবু জাফরের বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও হাশামদিয়ার তার পদ্মডুবি মৎস্য প্রকল্প থেকে ৩০৪ পিস ত্রাণের ঢেউটিন উদ্ধার করে। এ ঘটনায় বোয়ালমারী থানার এসআই আকরামুল হক বাদি হয়ে শাহ মোঃ আবু জাফর, তার ভাগ্নে আমির হোসেন বাদশা ও বোয়ালমারী উপজেলা বিএনপি’র দুই নেতা রফিকুল ইসলাম কামাল ও আতাউর রহমান খানের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি মামলা করেন। এ মামলায় শাহ জাফর গত ১৮ মার্চ হাইকোর্টে হাজির হয়ে জামিনের প্রার্থনা করলে আদালত তাকে ৮ সপ্তাহের মধ্যে নিু আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন।
এদিকে জেলা ও দায়রা জজ আদালত থেকে জামিন নামঞ্জুর হওয়ার পরপরই দুপুর ১২টার দিকে শাহ মোঃ আবু জাফরকে একটি পুলিশ ভ্যানে ফরিদপুর জেলা কারাগারে নিয়ে আসা হয়। এরপর বেলা ২টার দিকে মাইক্রোবাসযোগে বিশেষ পুলিশ প্রহরায় তাকে কাশিমপুর কারাগারের উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়।
ফরিদপুর জেলা কারাগারের জেল সুপার মোঃ আজিজ উদ্দিন তালুকদার শাহ মোঃ আবু জাফরকে কাশিমপুর কারাগারে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে এ বিষয়ে তিনি বেশি কিছু বলতে অস্বীকৃতি জানান।
খন্দকার নাসিরের চাঁদাবাজি মামলার চার্জশিট দাখিল
বোয়ালমারী সংবাদদাতা জানান, ফরিদপুর-১ আসনের সাবেক এমপি খন্দকার নাসিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে বোয়ালমারী থানায় দায়ের করা চাঁদাবাজি মামলার চার্জশিট গতকাল রোববার আদালতে দাখিল করা হয়েছে। চার্জশিটে খন্দকার নাসিরসহ আরো চারজনকে আসামি করা হয়েছে। যার মধ্যে খন্দকার নাসির ও আব্দুল কুদ্দুস বর্তমানে জেলহাজতে রয়েছে।
তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ পরিদর্শক মোঃ হাবিবুর রহমান জানান, ২০০৫ সালের ৫ জানুয়ারি সাতৈর গ্রামের ব্যবসায়ী লাল মিয়াকে মারধর করে তার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা জোরপূর্বক চাঁদা নেয়া হয় মর্মে গত ২৬ মার্চ তিনি মামলা করেন। তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে।
সাবেক এমপি লালু ও বিএনপি নেতা সাইফুল শ্যোন অ্যারেস্ট
বগুড়া অফিস জানায়, চাঞ্চল্যকর যুবদল নেতা মোহন শেখ হত্যা মামলায় গতকাল রোববার জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলামকে সদর ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে হাজির করা হলেও এই মামলায় অপর আসামি বিএনপি’র সাবেক সংসদ সদস্য হেলালুজ্জামান তালুকদার লালুকে আদালতে হাজির করা হয়নি। তাদের দুজনকেই এ মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, ২০০৬ সালের ২১ নভেম্বর বগুড়া শহরের জিরোপয়েন্ট সাতমাথায় চার দল ও মহাজোটের কর্মসূচি পালনের সময় হাজার হাজার মানুষের সামনে যুবদল নেতা মোহন শেখকে দুর্বৃত্তরা ছুরিকাঘাতে হত্যা করে। এই হত্যাকাণ্ডের জন্য এক দল অপর দলকে দায়ী করে। পরে ২২ নভেম্বরে যুবদল নেতা আতাউর রহমান শম্ভু বাদি হয়ে আওয়ামী লীগ নেতা সুজানুর রহমান সুজন, আমিনুর ইসলাম ডাব্লু, লতিফুল করিমসহ ২১ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করে। ওই মামলার তদন্ত কারী কর্মকর্তা ডিবি ইন্সপেক্টর শাহিদুল ইসলাম শাহীন সাক্ষ্যপ্রমাণ গ্রহণসহ সাংবাদিকদের তোলা হত্যাকাণ্ডের ভিডিও ফুটেজ দেখে আওয়ামী লীগ নেতাদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। পরে মিথ্যা মামলার জন্য যুবদল নেতা শম্ভুসহ ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে এসআই আঃ মান্নান মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় গ্রেফতারকৃত শাহ আলম ওরফে বোমা আলম ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা কোর্টে স্বীকার করে। ওই মামলায় গতকাল বগুড়া সদর ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে সাইফুল ইসলামকে হাজির করা হয়। তবে হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু বিশেষ ক্ষমতা আইনে পাবনা কারাগারে আটক থাকায় আদালতে হাজির করা হয়নি।

Source:দৈনিক নয়া দিগন্ত
Date:2007-05-14

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: