জনগণ নিশ্চয়ই দুঃশাসনের বিজয় দেখতে চায় নাঃ ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন বলেছেন, একটি সরকার বিহীন অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমান সরকারকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিতে হয়েছে। সংকটের গভীরতা উপলব্ধির জন্য হালকা নয়, সকলকেই গভীর চিন্তা-ভাবনা করতে হবে। সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা একটি দায়িত্বশীল, সৎ এবং স্বচ্ছ সরকার গঠনের দূরূহ দায়িত্ব পালনে ওয়াদাবদ্ধ। সেই লক্ষ্য অর্জনের জন্য সরকার বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। দলীয় রাজনীতিতে সংস্কারের কথা আমাদেরকেই প্রথম বলতে হয়েছে। কারণ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ দুঃশাসনের বিজয় দেখতে চায় না। এ প্রসংগে তিনি আরো বলেন, সাংবাদিকসহ সকলের কাছ থেকে আমরা শুধু তথ্য নয়, সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক সরকার গঠনের ব্যাপারে সুচিন্তিত সহযোগিতা কামনা করি।

উপদেষ্টা গতকাল সোমবার বিয়াম মিলনায়তনে ডেমোক্রেসি ওয়াচ ও গণসাক্ষরতা অভিযানের সহযোগিতায় পিপলস ফোরাম অন এমডিজিস (পিএফএম) আয়োজিত “সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে গণমাধ্যমের ভূমিকা” শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন।

ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন বলেন, আমরা কিন্তু নিঃসঙ্গ যদিও আমাদের পেছনে জনসমর্থন রয়েছে, রয়েছে সাংবাদিকদের সমর্থন। উপদেষ্টা বলেন, সমস্যা থাকবে, সমস্যার উপর দৃষ্টিও রাখতে হবে এবং এর সমাধানে সম্মিলিত উদ্যোগ থাকতে হবে। তিনি সাংবাদিকদের সহযোগী শক্তি হিসেবে পাওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, দেশে এমন একটি সময় এসেছে যখন অতীতের অন্যায়, অবিচার ও লুটপাট সম্পর্কে সাহস করে সত্য বলার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। সরকারী ব্যবস্থা কেন প্যারালাইজড হয়েছিল, কোথায় ফাঁকি, কাদের ভুল ভ্রান্তির জন্য দেশে সরকারহীন নৈরাজ্যর সৃষ্টি হয়েছিল সেসব তলিয়ে দেখতে হবে। প্রশ্ন করতে হবে তাদেরকে যাদের দুর্নীতি ও ব্যর্থতার জন্য বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমস্যা ও সংকট সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা সব দায়িত্ব পালনের জন্য আসিনি।

সাংবাদিকদের উদ্দেশে উপদেষ্টা আরো বলেন, আপনারা বড় দুর্নীতিকে ছোট বা ছোট দুর্নীতিকে বড় করে দেখার কথাও বলে থাকেন। আজ দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্তদের উন্মুক্ত আদালতেই বিচার হচ্ছে। তবে রাজনীতিকদের জন্য কোর্টের সাজার চেয়ে বড় সাজা হচ্ছে জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা হারানো।

দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য সৎ, যোগ্য ও বাস্তববাদী নেতৃত্বের প্রয়োজন। কিন্তু নেতৃত্বের যোগ্যতা ও সততা বা তাদের ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে না। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, দেশে সুশাসন নিশ্চিত করতে না পারলে সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জন ব্যাহত হবেই।

দৈনিক আমার দেশের উপদেষ্টা সম্পাদক আতাউস সামাদের সভাপতিত্বে এতে বক্তৃতা করেন সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ও দৈনিক ইন্ডিপেন্ডেন্টের সম্পাদক মাহবুবুল আলম, নিউজ টুডের সম্পাদক রিয়াজউদ্দিন আহমেদ, বাসসের প্রধান সম্পাদক জগলুল আহমেদ চৌধুরী, সাংবাদিক মাহফুজ উল্যাহ, যায়যায় দিন সম্পাদক শফিক রেহমান, মানবজমিনের সম্পাদক মাহবুবা চৌধুরী, পিএফএমের আহবায়ক রাশেদা কে চৌধুরী, তালেয়া রেহমান প্রমুখ।

পিপলস ফোরাম অন এমডিজিস (পিএফএম) আয়োজিত কর্মশালায় সভাপতির বক্তৃতায় সাংবাদিক আতাউস সামাদ বলেন, আমরা যতই সংস্কারের কথা বলি না কেন, নির্বাচন হবে এবং ভোটের ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে দেশ কিভাবে চলবে। তবে কি ধরনের এবং কোন কোন ক্ষেত্রে সংস্কার দরকার সেটাও সরকারের পক্ষ থেকে পরিষ্কারভাবে আসা উচিত।

সাবেক উপদেষ্টা মাহবুবুল আলম বলেন, এমডিজি অর্জনের জন্য শিক্ষার মান বাড়াতে হবে। গ্রাম পর্যায়ে প্রাথমিক শিক্ষার মান ভাল নয়। দরিদ্রদের মাঝে ক্ষুদ্র ঋণ সুবিধা পৌঁছে দেয়ার উপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, রোগ-ব্যাধি নির্মূলে পদক্ষেপসহ সচেতনতা বাড়াতে হবে। ইতিমধ্যে যেসব খাতে ভাল অর্জন সম্ভব হয়েছে সেগুলো ধরে রাখতে হবে। এমডিজির লক্ষ্য পূরণে শুধু পরিসংখ্যানগত অর্জন নয়, গুণগতমানও অর্জন করতে হবে।

জগলুল আহমেদ চৌধুরী সরকার ও জনগণের মিলিত চেষ্টায় এমডিজি অর্জন ত্বরান্বিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তবে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের রূপরেখা কতটা প্রাসঙ্গিক সেটাও দেখার বিষয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

শফিক রেহমান দুর্নীতি রোধে শিক্ষার প্রসার জরুরি উল্লেখ করে বলেন, উন্নয়নের মূল লক্ষ্য শিক্ষা। শিক্ষা ছাড়া দুর্নীতি রোধ সম্ভব নয়।

সাংবাদিক মাহফুজ উল্যাহ বলেন, এমডিজি অর্জনের জন্য শাসনের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বর্তমান সরকারের প্রতি জনগণের আস্থায় ব্যতিক্রম ঘটেছে উল্লেখ করে বলেন, মানুষের মনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষোভ দূর করে আস্থা অর্জন করতে না পারলে এমডিজি অর্জন সম্ভব হবে না।

রিয়াজউদ্দিন আহমদ বলেন, কেবল লক্ষ্য স্থির করলেই হবে না, বাস্তবায়নের গতি থাকতে হবে। সেটি যে খুব এগুচ্ছে তা আমার মনে হয় না। তিনি লক্ষ্য অর্জনে জনগণকে সম্পৃক্ত করার বিষয়ে সরকারকে তাগিদ দেন।

পিএফএম বাংলাদেশের আহবায়ক রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, দুই নেত্রী কোথায় গেলেন, কি করলেন সেটার চেয়ে উন্নয়নের ইস্যুগুলো বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমাদেরকে এমডিজি প্লাসের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।

Source:দৈনিক ইত্তেফাক
Date:2007-05-15

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: