তড়িঘড়ি নির্বাচন দিয়ে আবার দেশে প্যারালাইজড সরকার আনতে চাই নাঃ আইন উপদেষ্টা

আইন ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন বর্তমান সরকারকে ‘লোনলি’ আখ্যায়িত করে বলেছেন, আমাদের কোনো দল নেই, ফলোয়ার নেই। তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে এমন একটি পর্যায়ে আসতে হয়েছে, যখন রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠানকে ‘প্যারালাইজড’ অবস্থায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। আজকে এসব সচল করতে সরকার রক্ষা করাই কঠিন হয়ে পড়েছে। তড়িঘড়ি নির্বাচন দিয়ে পুনরায় প্যারালাইজড সরকার আনতে চাই না। দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য এই প্যারালাইজড অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। তিনি বলেন, শুধু সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যসমূহ অর্জন সম্ভব। অতীতের ভুলভ্রান্তি থেকে শিক্ষা নিয়ে জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য স্থায়ী শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করাই বর্তমান সরকারের মূল প্রচেষ্টা। তিনি বলেন, আমরা জনগণের কাছে কোনো অঙ্গীকার দিয়ে আসিনি। ভুলভ্রান্তি হতেই পারে। আমাদের ব্যর্থতা মানে সবার ব্যর্থতা। সরকার যাতে ব্যর্থ না হয়, সেজন্য সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে। দুর্নীতিবাজ রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে জনগণের অনাস্থা আনাই তাদের জন্য বড় শাস্তি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
গতকাল সোমবার বিয়াম ফাউন্ডেশনের শহীদ নুরুল আমিন খান মেমোরিয়াল হলে ডেমোক্র্যাসিওয়াচ ও গণসাক্ষরতা অভিযান আয়োজিত ‘সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যসমূহ অর্জনে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথাগুলো বলেন। আমার দেশ পত্রিকার উপদেষ্টা সম্পাদক বিশিষ্ট সাংবাদিক আতাউস সামাদের সভাপতিত্বে এ কর্মশালায় অন্যান্যের মধ্যে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ডেইলি ইনডিপেন্ডেন্ট সম্পাদক মাহবুবুল আলম, নিউজ টুডের সম্পাদক রিয়াজউদ্দিন আহমেদ, বাসস’র প্রধান সম্পাদক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক জগলুল আহমদ চৌধুরী, সেন্টার ফর সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্টের মহাসচিব মিডিয়া ব্যক্তিত্ব মাহফুজ উল্লাহ, পিপল্‌স ফোরাম অব এমডিজি’র আহ্বায়ক রাশেদা কে চৌধুরী, যায়যায়দিন সম্পাদক শফিক রেহমান, মানবজমিন সম্পাদক মাহবুবা চৌধুরী ও ডেমোক্র্যাসিওয়াচের নির্বাহী পরিচালক তালেয়া রেহমান বক্তৃতা করেন। কর্মশালায় ৩০ জন সাংবাদিক অংশগ্রহণ করেন। শিল্প মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী প্রধান রেহনুমা সালাম খান ও সিএমপিই’র প্রোগ্রাম ম্যানেজার সায়েদ-উল-আলম কাজল কর্মশালার দ্বিতীয় সেশনে বক্তৃতা করেন। পরে দিনকালের কূটনৈতিক রিপোর্টার মাহমুদা চৌধুরীকে আহ্বায়ক, নয়া দিগন্তের সিনিয়র রিপোর্টার আশরাফ আলীকে যুগ্মআহ্বায়ক ও সমকালের স্টাফ রিপোর্টার উমমুল ওয়ারা সুইটিকে সদস্য সচিব করে ঢাকা বিভাগীয় এমডিজি জার্নালিস্ট ফোরামের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়।
ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন বলেন, দেশের প্রতি দায়িত্ববোধের কারণে আমাদের ক্ষমতায় আসতে হয়েছে। সমিমলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে সমস্যা দূর করতে হবে। তিনি বলেন, স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকে দেশ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে একে একে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। এ সরকারের কাজ হলো সেসব প্রতিষ্ঠানকে সচল করা। সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, স্বাধীনতার পরই এসব সংস্কার হওয়া উচিত ছিল। দেশে সুশাসনের জন্য কী ধরনের সংস্কার হওয়া প্রয়োজন, সে ব্যাপারে তিনি সাংবাদিকদের পরামর্শ চান। উপদেষ্টা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সাংবাদিকরা আমাদের কাজের সঠিক মূল্যায়ন করে সহযোগী শক্তি হিসেবে কাজ করবেন। জনগণ কী ধরনের ও কিভাবে নির্বাচন চায় সাংবাদিকদের উচিত আমাদের সেগুলো জানানো। তিনি বলেন, একটি অচলাবস্থা থেকে আরেকটি অচলাবস্থায় পতিত হতে জনগণ চায় না। বর্তমান সরকারের সাফল্য নির্ভর করছে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের পছন্দের সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের ওপর।

Source:দৈনিক নয়া দিগন্ত
Date:2007-05-15

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: