সেমিনারে সাবেক উপদেষ্টা আকবর আলি খান সংবিধানে বাজেটের ব্যাপারে সংসদের ভূমিকা সীমাবদ্ধ

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আকবর আলি খান বলেছেন, বাংলাদেশের বাজেট কেন্দ্রীভূত। বাজেট তৈরি ও সংশোধনের ৰেত্রে সংসদের কোনো ভূমিকা নেই। সংবিধানে বাজেটের ব্যাপারে সংসদের ভূমিকা সীমাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে। সংসদের জন্য অংশীদারিত্বশীল বাজেট করতে হলে সংবিধানে পরিবর্তন আনতে হবে।
গতকাল সোমবার বিকালে সিরডাপ মিলনায়তনে স্টেপস স্টুয়ার্ডস ডেভেলপমেন্ট আয়োজিত ‘জেন্ডার সংবেদনশীল বাজেট’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সেমিনারে স্টেপস স্টুয়ার্ডস ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক রঞ্জন কর্মকারের পরিচালনায় আরো বক্তব্য রাখেন উন্নয়ন সমুন্নয়ের চেয়ারম্যান ড. আতিউর রহমান, গবেষক ও জেন্ডার বিশেষজ্ঞ ড. কানিজ সিদ্দিকী, সমকালের উপ-সম্পাদক মোজাম্মেল হোসেন, অ্যাকশনএইডের ইন্টেরিম কান্টৃ ডিরেক্টর শোয়েব সিদ্দিকী, সিপিডির সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. ফাহমিদা খাতুন, প্রথম আলোর প্রধান প্রতিবেদক প্রণব সাহা, অক্সফামের জেন্ডার প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর এম বি আখতার প্রমুখ। সেমিনারে শুরম্নতে স্টেপস স্টুয়ার্ডস ডেভেলপমেন্টের পৰ থেকে উপস্থাপিত প্রবন্ধে জাতীয় বাজেটে নারীদের অগ্রগতি সংক্রানত্দ বিষয়ে বরাদ্দের অপ্রতুলতা তুলে ধরা হয়।

সরকারি দায়িত্ব পালনকালে ১৪টি বাজেটের সঙ্গে সম্পৃক্ত আকবর আলি খান বলেন, সামাজিক বৈষম্যের কারণে বাংলাদেশে ৫৩ লাখ মহিলা হারিয়ে গেছে। কোন ধরনের সামাজিক বৈষম্যের ফলে এটা হয়েছে সে ব্যাপারে গবেষণা দরকার। তিনি বলেন, আমরা এখনো জানি না মহিলাদের সমস্যা কি? নারীদের আয় পুরম্নষের তুলনায় ৬৬ শতাংশ মাত্র। এ বঞ্চনার উৎস কোথায় তা আমাদের জানতে হবে।

ড. আতিউর রহমান বলেন, বাজেটে নারীর উন্নয়নে বরাদ্দের ব্যাপারে কোনো সরকারই আনত্দরিক ভূমিকা পালন করেনি। বাজেটে এর প্রতিফলনের জন্য সামাজিক চাপ অব্যাহত রাখতে হবে।

ড. কানিজ সিদ্দিকী বলেন, বাজেট যারা প্রণয়ন করেন তারা খুব জুনিয়র লেভেলের অফিসার। যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের দিয়ে বাজেট প্রণয়ন করলে তারা গুরম্নত্বপূর্ণ পরিকল্পনা দিতে পারবেন।

সাংবাদিক মোজাম্মেল হোসেন বলেন, আমাদের সমাজ-সংসারে নারীর অবদানকে এখনো স্বীকৃতি দেয়া হয় না। তিনি বলেন, পুলিশের শিৰা ও প্রশিৰণে মানবাধিকার ও জেন্ডার সংবেদনশীলতা বাড়াতে বাজেটে অর্থ সংস্থান রাখা প্রয়োজন।

শোয়েব সিদ্দিকী বলেন, বাজটের ৰেত্রে ট্রান্সপারেন্সি থাকা দরকার। বাজেট অধিবেশনে ভালো ভালো কথা বলা হলেও বাজেটের পর এসআরও দিয়ে অনেক কিছু বদলে ফেলা হয়।

ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, নারীদের উন্নয়নের মূল ধারায় ফিরিয়ে আনতে হলে বাজেটে বেশি বরাদ্দ দিতে হবে। বাজেটে কোন খাতে কতো বরাদ্দে কি প্রভাব পড়লো তারও গবেষণা দরকার।

সাংবাদিক প্রণব সাহা বলেন, ১৯৯৭ সালে নারী উন্নয়ন নীতিমালা হয়েছে। তারপর ১০ বছর চলে গেছে। আমরা জেন্ডার সংবেদনশীল কোনো বাজেট পেলাম না।

সূত্রঃ http://www.jaijaidin.com/details.php?nid=10072

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: