১৬ বছর ধরে মিনুর অকৃত্রিম হাসি

রাজশাহী সিটি কর্পরেশনের মেয়র ও সাবেক এমপি মিজানুর রহমান মিনুর মেয়র পদে ১৬ বছর পূর্ণ হবে আগামী ২১ মে। মনোনীত মেয়র হিসেবে তিনি প্রথম শপথ নিয়েছিলেন ১৯৯১ সালের এই দিনে। এরপর টানা ১৬ বছর মেয়রের চেয়ারে আসীন মিনু। ২০০১-এর পার্লামেন্ট নির্বাচনে রাজশাহী সদর আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হন তিনি। এক যুগেরও বেশি সময় মিনু অধিষ্ঠিত আছেন বিএনপির বিভাগীয় সাংগঠনিক পদে। গত বছর এপৃল ও সেপ্টেম্বরে কানসাট ও ফুলবাড়ী ঘটনায় উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দলীয় হাই কমান্ডের অনুমোদনক্রমে তিনি দুটি ঘটনারই সম্মানজনক নিষ্পত্তিতে বিশেষ ভূমিকা রাখেন।

মেয়র খোকার সামপ্রতিক বক্তব্যের পর মিনুর বক্তব্য কি শুনতে গেলে গতকাল মঙ্গলবার সকালে নগরভবন কার্যালয়ে যায়যায়দিনকে বলেন, ‘আমি দলের হাই কমান্ড ও দলীয় ডিসিপিস্ননের বাইরে কখনই কোনো কাজ করিনি। দেশে জরম্নরি অবস্থা ও ঘরোয়া রাজনীতি নিষিদ্ধ। কাজেই এ মুহূর্তে কিছু বলা হবে দলীয় ডিসিপিস্নন ভঙ্গের শামিল। দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মান্নান ভূঁইয়া ও দফতর সম্পাদক নজরম্নল ইসলাম খান ছাড়া যে যতো কথাই বলুন, সেসব দলীয় স্পোকসম্যানের বক্তব্য নয়।’

মেয়র হিসেবে দীর্ঘ ১৬ বছর সময়ে মিনুর উলেস্নখযোগ্য ইভেন্ট কি ছিল জানতে চাইলে বলেন, ১৯৯৪ সালে আমেরিকার মেক্সিকো সিটিতে বিশ্ব মেয়র সম্মেলনে বিশ্বের কনিষ্ঠতম মেয়র হিসেবে অংশগ্রহণ। এ সম্মেলনে ফ্রান্সের সাবেক প্রেসিডেন্ট শিরাক, ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হুগো শাভেজ ও মালয়শিয়ার প্রধানমন্ত্রী বাদাবি অংশ নিয়েছিলেন। তারা সে সময় ছিলেন প্যারিস, কারাকাস ও কুয়ালা লামপুরের মেয়র। পরে এ সম্মেলনের সূত্র ধরে ২০০২ সালের ৮ মে নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দফতরে বিশেষ অধিবেশনে বিশ্বের যে চারজন মেয়রকে শিশু অধিকার প্রতিষ্ঠায় গুরম্নত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য বক্তব্য রাখার সুযোগ দেয়া হয়েছিল মিনু ছিলেন তাদের অন্যতম।

১৬ বছরে ব্যর্থতা কি_ এ জিজ্ঞাসার জবাবে মিনু বলেন, নগরীতে একটি অত্যাধুনিক কসাইখানা তৈরি করতে না পারা। তবে এ ব্যর্থতার অচিরেই অবসান হবে এ কথা জানিয়ে বলেন, পরিবেশ ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে বর্তমান সরকার। কসাইখানা নির্মাণের জন্য জায়গা খোজা হচ্ছে। শিগগির কাজ শুরম্ন হবে।

মিনুর নেতৃত্বে বৃৰ রোপণে নয়বার প্রধানমন্ত্রী পুরস্কার পেয়েছে রাজশাহী সিটি কর্পরেশন (রাসিক)। ইপিআই টিকাদান কর্মসূচিতে সাফল্যের জন্য রাসিক প্রথম হয়েছে একাধিকবার। এসব সাফল্যের পাশাপাশি নগরীকে একেবারেই পাল্টে ফেলার মতো স্থাপনাগুলোও নির্মিত হয়েছে মিনুর আমলে। এসবের মধ্যে রয়েছে ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত দৃষ্টিনন্দন নগরভবন, সাহেববাজার বড় মসজিদ, জিয়া শিশু পার্ক, দুই পর্বে ড্রেনেজ ও পানি বিশুদ্ধকরণ প্রকল্প, তিনটি হসপিটাল ও ১৪টি হেলথ সেন্টার নির্মাণ, সড়ক ও মোড় প্রশসত্দকরণ প্রকল্প, লক্ষ্মীপুর-কাশিয়াডাঙ্গা সড়ক নির্মর্াণ ও নগরী জুড়ে সোডিয়াম লাইটিংয়ের ব্যবস্থা করা। এছাড়া ত্রয়োদশ সার্ক সম্মেলনের সিদ্ধানত্দ অনুযায়ী সরকার ২০০৭ সালের গৃন সিটি ঘোষণা করেছে রাজশাহীকে।

বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক সরকার_ এ তিন টার্মের কোন টার্মে মেয়র হিসেবে মিনু বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেছেন জানতে চাইলে বলেন, সিটি কর্পরেশনের মেয়র সরকারেরই অংশ। কাজেই সব সরকারের সময়ই সরকারি বিধিনিষেধের মধ্যে থেকেই কাজ করতে হয়েছে। এখনো করছি। আমি আওয়ামী লীগের সময় যেমন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী জিলস্নুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মিটিংগুলোতে অংশ নিয়েছি, তেমনি বিএনপির আমলে মন্ত্রী আবদুল মান্নান ভূঁইয়ার মিটিংগুলোতে প্রয়াত ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মেয়র মোহাম্মদ হানিফ উপস্থিত থাকতেন।

মেয়র পদে ১৬ বছর থাকতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি কৃতজ্ঞ মিনু নগরবাসীর প্রতি। দীর্ঘ সময় নগরবাসীর সহযোগিতাকে অকৃত্রিম ও অনন্য বলে উলেস্নখ করেন তিনি। সেই সঙ্গে বলেন, ১৬ বছর তার ঠোটে ধরে রাখা স্মিত হাসিটাও অকৃত্রিম। অনন্য এ হাসির জননেতা মিনু আগামীতেও জনগণের খেদমতে উৎসর্গ করতে চান নিজেকে।

সূত্রঃ http://www.jaijaidin.com/details.php?nid=10076

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: